ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ , ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাড়ের মূল্যে ডিজেল কেনার অফার ফেলে রেখে প্রিমিয়াম দামে কেনার সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার ও আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-৩০ ১৯:৪৫:২৯
ছাড়ের মূল্যে ডিজেল কেনার অফার ফেলে রেখে প্রিমিয়াম দামে কেনার সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার ও আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরা ছাড়ের মূল্যে ডিজেল কেনার অফার ফেলে রেখে প্রিমিয়াম দামে কেনার সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার ও আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরা

শহিদুল ইসলাম
২৪ জুন ২০২৬ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে ডিজেল আমদানির পাঁচটি প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে, অথচ সরকার সম্প্রতি প্রতি মেট্রিক টনে বাজারমূল্যের সঙ্গে প্রতি ব্যারেলে ১৩.১৮ মার্কিন ডলার প্রিমিয়াম যোগ করে ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথডে (ডিপিএম) মোট ৫ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব কমিটিতে উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু কোনো আলোচনা ও কারণ ছাড়াই শেষ মূহুর্তে জ্বালানী মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবিত ফাইল গুলো প্রত্যাহার করে নেয়।


এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অবহেলা নয়, এটি প্রাতিষ্ঠানিক প্যাটার্ন। গত ৭ এপ্রিল থেকে বিপিসি থেকে ১৫ থেকে ২০টি ছাড়মূল্যের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, আর মন্ত্রণালয় একটিরও জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। দুই থেকে তিন মাস ধরে ফাইল চাপা পড়ে থাকা মানে শুধু বিলম্ব নয়, এটি কার্যকর প্রত্যাখ্যান, যার দায় কেউ নিচ্ছে না।



এক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অজুহাত দিচ্ছেন যে আগের সরবরাহকারীরা ৫% পারফরম্যান্স গ্যারান্টি দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু এই যুক্তিটির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময় ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ। কারণ মন্ত্রণালয় ইচ্ছাকৃতভাবে তিন মাস ফাইল আটকে রেখে অফারের মেয়াদ পার করিয়ে দেয় ও বাজারমূল্য বদলে দেয়। এরপর আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের ব্যর্থতা বলে দায় চাপানোর অভিযোগ রয়েছে।



যে কর্তৃপক্ষ নিজে সিদ্ধান্তহীনতার মাধ্যমে সময় বিলম্বের মাধ্যমে শর্ত পূরণ অসম্ভব করে তোলে, সেই কর্তৃপক্ষের তৈরি সংকটকে অন্যের ব্যর্থতা বলে চালিয়ে দিতে পারে না। কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও সময় বিলম্বের ফলে  ফলে বিভিন্ন প্যাকেজ ও ছাড়ের অফার নষ্ট হয়, আর সরকার বেশি দামে কেনে ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ছাড়মূল্যের প্রস্তাবগুলো সময়মতো প্রক্রিয়া করা হলে বিপিসি কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারত। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে পারত।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ